photodune-3834701-laughing-girl-xs

স্বর্ণ ‘প্রসব করলেন’ তিনি

স্বর্ণ ‘প্রসব করলেন’ তিনি

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মো. মিজান আহমেদ (৪০) নামের এক যাত্রীর পেট থেকে দুটি স্বর্ণের বারসহ চারটি স্বর্ণের রিং উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টায় মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন মিজান। তিনি কুমিল্লা সদর উপজেলার আবদুল মান্নানের ছেলে।

শুল্ক গোয়েন্দার ওয়েবসাইটে বলা হয়, শুল্ক গোয়েন্দার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিজানের ওপর নজর রাখেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে গ্রিন চ্যানেল পার হয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মিজানের চোখে কালো দাগ ও হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ করার পর গোয়েন্দা সদস্যদের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। তবে তিনি পেটে স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেননি।

জিজ্ঞাসাবাদের পর মিজানকে আর্চওয়ে মেশিনে হাঁটানো হয়। তখন গোয়েন্দাকর্মীরা তাঁর পেটের ভেতর স্বর্ণ থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন। নিজে থেকে স্বর্ণ বের না করে পরে তাঁকে উত্তরার জাহানারা ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করানো হয়।

এক্স-রে প্রতিবেদনে মিজানের তলপেটে স্বর্ণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয় শুল্ক গোয়েন্দার দল। এর পর তাঁকে আবার বিমানবন্দর নিয়ে শরীর থেকে স্বর্ণ বের করার চেষ্টা চলতে থাকে। তাঁকে কলা ও জুস খেতে দেওয়া হয়। শুল্ক গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে টয়লেটের অভ্যন্তরে বিশেষ কায়দায় তাঁর পায়ুপথ দিয়ে দুটি স্বর্ণের বার বের করে আনা হয়। পরে মিজানের হাতব্যাগ থেকে আরো চারটি স্বর্ণের রিং পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজান জানান, আকাশে বিমানে অবস্থানের সময় তিনি দুটি স্বর্ণের বার টেপ দিয়ে মুড়ে পায়ুপথে প্রবেশ করান।

গ্রেপ্তার ওই যাত্রীর পাসপোর্ট পরীক্ষায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে তিনি চারবার কুয়ালালামপুর ভ্রমণ করেছেন। তবে প্রতিবার স্বর্ণ বহন করেছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক দুটি স্বর্ণবারের প্রতিটির ওজন ১০০ গ্রাম করে। এ ছাড়া চারটি রিংয়ের মোট ওজন ৫৮ গ্রাম। আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। মিজানকে চোরাচালানের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জব্দ করা স্বর্ণ কাস্টমস গুদামে জমা করা হবে এবং পরে তা বিশেষ প্রহরায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হবে বলে জানানো হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দার ওয়েবসাইটে।

Comments